জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের পেছনে দলীয় এমপি থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের সমর্থন রয়েছে। এ কারণে এমন পরিস্থিতির থাকায় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভোটের দিন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ থাকবে কিনা তাই নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অন্তত ডজনখানেক নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়া নিশ্চিত করতে দলীয় ফোরামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের কেউ কেউ লিখিত আবেদন পর্যন্ত করেছেন। এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকাতে সব রকম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কঠোর অবস্থানে গেছে বরিশাল আওয়ামী লীগ। শনিবার একদিনেই দল থেকে ১৯ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনই বিদ্রোহী প্রার্থী। এ বহিষ্কারের তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস।
আরও কয়েকজন নৌকার প্রার্থী শঙ্কায় রয়েছেন। বরগুনার বামনা উপজেলার ঢৌয়াতলা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরুল ইসলাম নিজাম মৃধা বলেন, এখানে বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন। তার পক্ষে কাজ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। যতদূর খবর পেয়েছি নির্বাচনের দিন তারা বেশ কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে সিল মারার প্রস্তুতি নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে টেনশনে আছি এবং প্রশাসনকে জানিয়েছি। প্রশাসন কঠোর হলে হয়তো নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে।
বরিশালের হিজলা হরিনাথপুর, বড়জালিয়া ও মেমানিয়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের তিন প্রার্থীর অভিযোগ আবার স্থানীয় সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে। এ তিন ইউনিয়নেই দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন আওয়ামী লীগের তিন প্রভাবশালী নেতা। হরিনাথপুরের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল লতিফ খান বলেন, এমপি (পঙ্কজ) সরাসরি নৌকার বিরোধিতা করছেন। বড়জালিয়া ও মেমানিয়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের দুই প্রার্থী যথাক্রমে এনায়েত হোসেন হাওলাদার ও অলিউদ্দিন তালুকদার বলেন, সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে এখানে হেরেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। জয়ী হওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন এমপি পঙ্কজ। তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে এমপি পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, আমার রক্ত-মাংসে নৌকা। দলের বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। তারা যা বলছেন তা ঠিক নয়। আমি নৌকার পক্ষেই কাজ করছি।
জেলা আওয়ামী লীগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন- হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পন্ডিত সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার নাসির উদ্দিন হাওলাদার, হরিনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান সিকদার, মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মুন্সি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মজিবুর রহমান শরীফ, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ আলী, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তাজেম আলী হাওলাদার, বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ওরফে ইতালি শহিদ।
এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করায় বহিষ্কৃতরা হলেন- বরিশাল জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত হোসেন পান্না, বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বাছের আহম্মেদ বাচ্চু, গারুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন তালুকদার মিন্টু, কলসকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম তালুকদার, বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মীর, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মনির খান, ইসমাইল বেপারী এবং একই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রব বেপারী।
জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। উত্তর যথাযথ না হলে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
সোমবার বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ১৭৩টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যদিও এরমধ্যে ২৬টি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ৩১ জন ইউপি সদস্যও ভোট ছাড়াই জয়ী হয়েছেন

Post a Comment